এনআইডি কার্ড সংশোধন - শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনে করণীয়

এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য করণীয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন

এনআইডি কার্ডে/ভোটার আইডি কার্ডে বিদ্যমান শিক্ষাগত যোগ্যতা একজন ভোটারে দৈনন্দিন কাজে খুব বেশি একটা ভূমিকা রাখে না। তবুও একজন ভোটারের উচিত তার এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নেয়া। একজন ব্যক্তি অনেক কষ্ট করে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন। সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল থাকাটা কেমন দেখায়। তাই প্রত্যেকটা ব্যক্তির উচিত নিজ নিজ এনআইডি কার্ডে/ভোটার আইডি কার্ডে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা সময়মত হালনাগাদ করে রাখা।

যেসব কারণে এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল হয়ঃ-

অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরা যখন ভোটার হয় তখন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বোচ্চ এসএসসি বা এইচএসসি পাশ হয়ে থাকে। যখন তারা লেখাপড়া শেষ করে এবং উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে। তখন তাদের এনআইডি কার্ডের/ভোটার আইডি কার্ডের শিক্ষাগত যোগ্যতা আপাতদৃষ্টিতে ভুল মনে হয়। তাছাড়া এনআইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল কমই হয়। যদি সামান্য কিছু ভুল থেকে থাকে তবে সেটা সাধারণত দুটো কারণে হয়ে থাকে। 

প্রথমত, নতুন ভোটার হওয়ার সময় ২ নং নিবন্ধন ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখতে ভুল হলে এনআইডি কার্ডের/ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যে থাকা শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল আসে। অনেক সময় দেখা যায়, ২ নং নিবন্ধন ফরমে শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থানে ব্যক্তি কি পাশ সেটি না লিখে কোন একটা সংখ্যা লেখা থাকে। যেমন ১০ লেখা থাকলে বোঝায় ব্যক্তি ৮ম শ্রেণী পাশ, ১২ লেখা থাকলে বোঝায় এসএসসি পাশ, ১৩ লেখা থাকলে বোঝায় এইচএসসি পাশ ইত্যাদি। কোন সংখ্যায় কি পাশ সেটি ভালো না জানা থাকা অবস্থায় সংখ্যা লিখে নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করে ভোটার হলে শিক্ষাগত যোগ্যতায় ভুল আসে। 

দ্বিতীয়ত, ডেটা এন্ট্রির সময় অপারেটরের টাইপিং মিস্টেকের কারণে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভুল আসতে পারে। এছাড়া কিছু ভোটারকে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন রেখেও নতুন ভোটার হতে দেখা যায়। কিছু সুযোগ সুবিধা নেয়ার জন্য একজন সার্টিফিকেটধারী হওয়া স্বত্ত্বেও শিক্ষাগত যোগ্যতা কম দেখিয়ে অনেকে ভোটার হয়ে থাকে।

এনআইডি কার্ড সংশোধন - শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের আবেদন পদ্ধতিঃ- 

এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন মূলত দুই ভাবে করা যায় -

প্রথমত সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম ২ সংগ্রহ করে পূরণ করতে হবে। এনআইডি কার্ড সংশোধনের ফি হিসাব করে রকেট/বিকাশ এ্যাপের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত ফি জমাদানের রশিদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনের পিছনে পিন-আপ করে অফিসে জমা দেয়া যায়। এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের পূর্বে অবশ্যই সরকারি ফি কত টাকা জমা দিতে হবে হিসাব করে নেয়া উচিত। এমন না হয় নির্ধারিত ফি এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা ভুল করে ফি হিসাবে জমা দিয়ে ফেলছেন।

দ্বিতীয়ত: অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন দাখিল করা যায়। সব থেকে ভালো হয় অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করলে। তাহলে ঘরে বসে নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট services.nidw.gov.bd এই ঠিকানায় গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। 
 
রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর প্রোফাইল অপশনে গেলে Other Info ট্যাবে, ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্য দেখা যাবে। সেখান থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা এডিট করে সঠিকভাবে লিখে পরবর্তী ধাপে ক্লিক করতে হবে। তারপরের ধাপে পেমেন্ট সম্পর্কিত তথ্য দেখাবে, তারপরের ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে, এভাবে প্রতিটি ধাপ পার করে আবেদন সাবমিট করা যাবে। আবেদন সাবমিট করা হয়ে গেলে আবেদনের একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করা যাবে এবং সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে কাছে রেখে দেবেন। 

এনআইডি কার্ড সংশোধন - শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহঃ-

❖❖ সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম দেয়া আছে এখন বাড়াতে চাচ্ছেন। তাদের ক্ষেত্রে এসএসসি সনদ এবং সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ফটোকপি সত্যায়িত করে আবেদনের সাথে জমা দেবেন।

❖❖ এ্যাফিডেভিট: এনআইডি কার্ডে যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি দেয়া আছে এখন কমাতে হবে (যেমন- এসএসসি পাশ দেয়া আছে হবে ৮ম শ্রেণী পাশ)। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত হলফনামার/এ্যাফিডেভিটের কপি আবেদনের সাথে জমা দেয়া যেতে পারে।  

❖❖ এনআইডি কার্ডের/ভোটার আইডি কার্ডের কপি: অফিসে আবেদন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর এনআইডি কার্ডের/ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

তাহলেই আপনার এনআইডি কার্ডের তথ্যে থাকা শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধন হয়ে যাবে। অনেক সময় উপজেলা নিবাচন অফিসার আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস অনুযায়ী মূল সার্টফিকেটি দেখে প্রত্যয়ন করতে পারেন। 

এনআইডি কার্ডে/ভোটার আইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন পেলে আবেদনকারীর মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। অনুমোদনের ম্যাসেজ পেলে বুঝবেন আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন কোন এনআইডি কার্ড আসবে না। আপনার পুরাতন এনআইডি কার্ড/ভোটার আইডি কার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। 

এনআইডি কার্ডে/ভোটার আইডি কার্ডে শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের বিষয়ে কারো যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টস করে জানাবেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য চেষ্টা করবো। পোষ্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ...।

4 মন্তব্যসমূহ

  1. অনলাইনে আবেদন করার পর আর কি করতে হবে

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অনলাইনে আবেদন করার পর আর কিছু করণীয় নেই, অপেক্ষা করুন। আবেদন অনুমোদন হলে বা বাতিল হলে বা আরো কাগজপত্র প্রয়োজন হলে মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে। তখন সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করবেন।

      মুছুন
  2. আসসালামু আলাইকুম,, প্রিয় স্যার" আমি আপনার কাছ থেকে একটি কথা বা সমাধান জানতে চাই উত্তর পেলে খুব খুশি হবো, অল্প বয়সে ভুল বসত নিজের জন্মনাম নাম না দিয়ে ডাক নাম দিয়ে ফেলছি ও পিতা মাতার নামের শেষে হক ও আক্তারের জায়গায় রহমান ও বেগম দিয়ে ফেলছি আর ভুলে এসএসসি পাশ বলে ফেলছি এখন সংশোধন করতে চাইলে আইডি কার্ড সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই হলফনামা দিয়ে কি আমি শুধু এসএসসি পাশ রিমুভ করতে পারব না নিজের নামের ভুল ও পিতা মাতার নামের ভুলও সংশোধন করতে পারব? এ ছাড়া আমার কাছে সকল ডকুমেন্টস আছে যেমন পাসপোর্ট জন্মসনদ ড্রাইভিং লাইসেন্স আর সবকিছু সঠিক আছে শুধু ন্যাশনাল আইডি কার্ডে ভুল রয়েছে যেটা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে যন্ত্রনা দিচ্ছে, মাঝের মধ্যে ইচ্ছে করতে দ্বিতীয়বার ভোটার হই কিন্তু সেটাও বেআইনি তাই আইনের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান চাচ্ছি দয়া করে জানাবেন অপেক্ষায় রইলাম স্যার ❤️❤️

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনার সমস্যাটি অনেক জটিলএকটা সমস্যা। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হবে। প্রথমে শুধু এনআইডি কার্ডের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে আবেদনের সাথে হলফনামা, স্কুলের সনদ এবং সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে আবেদনের সাথে জমা দেবেন। প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা থাকবে আপনি তাদের স্কুলের একজন ছাত্র ছিলেন এবং এসএসসি পাশ করেননি। শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার পর বাকি ভুলগুলো সংশোধনের জন্য আবার আবেদন করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি উল্লেখ থাকলে সার্টিফিকেট ছাড়া কোন কিছু পরিবর্তন করে দেবে না। সুতরাং আগে শিক্ষাগত যোগ্যতার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করুন।

      তারপর নাম সংশোধনের আবেদন করবেন। আমাদের ওয়েবসাইটে নাম সংশোধনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে একটি পোষ্ট করা আছে প্রয়োজনে দেখে নেবেন এবং পিতা মাতার নামের পদবী পরিবর্তনের জন্য পিতা মাতার আইডি কার্ডের কপি, সকল ভাই বোনের আইডি কার্ডের কপি আবেদনের সাথে জমা দেবেন।

      যেহেতু আপনার পুরো নাম পরিবর্তন হবে সেহেতু আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট অফিসে খোজ নিয়ে দেখবেন আবেদন কোন স্যারের আন্ডারে আছে এবং তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে দ্রুত সংশোধন করিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করবেন।

      মুছুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন