জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করার নিয়ম

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক


জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করার পর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। কখনো কখনো ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সংশোধন হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায় তবুও সংশোধন হয় না। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করার প্রয়োজন তখনই হয় যখন আবেদন নিষ্পত্তি হতে অনেক বেশি সময় লাগে। তাই আজকে আপনাদেরকে জানাবো কিভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করা যায় সেই বিষয়ে। কেননা অনেকেই আছেন যারা এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানেন না। তাদেরই জন্য আজকের এই পোষ্ট।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন হতে বেশি সময় লাগলে অবশ্যই আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোজ নিতে হবে। অন্যথা সময় বেশি লাগতেই থাকবে। আবেদনের সাথে পর্যান্ত পরিমাণ প্রয়োজনীয় দলিলাদি জমা না দিলে আবেদন নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগে। তাই যথাসময় আবেদন সম্পর্কে খোজ নিতে হবে এবং আরো কাগজপত্র চাইলে সেগুলো জমা দিতে হবে।

{tocify} Stitle={Custom Title}

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করার উপায়

বর্তমানে কয়েকটি উপায়ে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের আবেদন চেক করার উপায় রয়েছে। যদি আপনার আবেদন বহু দিন যাবত পেন্ডিং থাকে তাহলে উল্লেখিত উপায়ে অবশ্যই আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিবেন। 

আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানলে পরবর্তী স্টেপে কি করতে হবে সেটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। আর সেই অনুপাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অবশ্যই কম সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন হয়ে যাবে। 

SMS এর মাধ্যমে আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা

এখন নিয়ম এটাই যে এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার পর আবেদনের সাথে সরবরাহকৃত মোবাইল নম্বরে SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় আবেদনের অবস্থা সম্পর্কে। কিন্ত SMS এর মাধ্যমে আবেদনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। 

আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরো কাগজপত্র লাগলে ম্যাসেজ করা হয়। আবেদন অনুমোদন হলেও ম্যাসেজ করা হয়। তাছাড়া আবেদন কোন ক্যাটাগরীতে পড়েছে এ বিষয়ে তেমন কোন তথ্য জানা যায় না। কিন্ত অনেকেই অসাবধানতা বসত ম্যাসেজ লক্ষ্য করেন না কিংবা ডিলিট হয়ে যায় কিংবা এমন কোন ম্যাসেজ আসে না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করে দেখার প্রয়োজন পড়ে।

কিভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করবেন

বিস্তারিতভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে খোজ নেয়া। যদি অনলাইনে আবেদন করে থাকেন তাহলে আবেদনের কপি অথবা এনআইডি নম্বর নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে বলতে হবে যে, সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে আবেদন কোন ক্যাটাগরীতে পড়েছে এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা কি এ বিষয়ে জানতে এসেছি।

অফিসে কর্মরত স্টাফ আপনাকে এ সকল তথ্য দিয়ে অবশ্যই সহায়তা করবেন। আবেদন নিষ্পত্তিকল্পে যদি আরো কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তাহলে কি কি কাগজপত্র লাগবে তিনি তা লিখে দেবেন। আপনাকে সেই কাগজপত্রের ফটোকপি অফিসে জমা দিয়ে আসতে হবে। অন্যথা আবেদনের কোন অগ্রগতি হবে না। 

যদি আরো কাগজপত্র না চাওয়া হয় এবং শুধু শুধু আবেদন পেন্ডিং অবস্থায় থাকে তাহলে জানতে হবে আবেদন কোন ক্যাটাগরীতে পড়েছে। যদি "ক" ক্যাটাগরীতে থাকে তাহলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সাথে সরাসরি কথা বলবেন এবং আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে দিতে বলবেন।

যদি আবেদন "খ" ক্যাটাগরীতে পড়ে তাহলে জেলা নির্বাচন অফিসারের সাথে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা অফিসারের সাথে কথা বলে সময় নষ্ট না করাই ভালো। কারণ "খ" ক্যাটাগরীর আবেদন নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা জেলা নির্বাচন অফিসারকে দেয়া হয়েছে।

আর যদি আবেদন "গ" ক্যাটাগরীতে পড়ে তাহলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের সাথে কথা বলতে হবে। "গ" ক্যাটাগরীর আবেদনগুলো জটিল প্রকৃতির হয় বিধায় বিভাগীয় নির্বাচন অফিসারের আন্ডারে থাকে এবং এ আবেদন নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা কেবল তিনিই রাখেন।

আরো পড়ুনঃ ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কোথায় হয় - কিভাবে হয় - কত দিন লাগে

অর্থাৎ আবেদন কোন ক্যাটাগরীতে পড়েছে, আরো কাগজপত্র জমা দেয়ার প্রয়োজন কি না, তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে কি না, শুনানীর প্রয়োজন রয়েছে কি না এ সব কিছু উপজেলা থেকেই জানা যাবে। কেবল শুধু শুধু আবেদন পেন্ডিং অবস্থায় থাকলে ক্যাটাগরীর দিকে লক্ষ্য করবেন। তারপর ওই ক্যাটাগরীর দায়িত্বে থাকা অফিসারের সাথে কথা বলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।

Nid Helpline থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা

অনেকেই Nid Helpline 105 এ কল করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেন। সেখান থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। তাই Nid Helpline 105 এ কল করার চেয়ে ভালো হয় সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা।

তবে আমি Nid Helpline 105 এ কল করে আবেদন সম্পর্কে খোজ নেয়ার বিষয়ে একেবারে নিষেধ করছি না। আপনারা অবশ্যই ১০৫ এ কল করে সেবা নিবেন। যদি সেই সেবাটা পর্যাপ্ত মনে না হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করবেন।

পরিশেষে

সব শেষে এটাই বলবো যদি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য আবেদন করে থাকেন এবং সময়মত ম্যাসেজের মাধ্যমে কোন আপডেট না পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোজ নিবেন। আরো কাগজপত্র চাইলে সেগুলো জমা দিবেন এবং দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করবেন। তাহলে হয়তো কম সময়ের মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

এই ছিলো জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন চেক করার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য। এ বিষয়ে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টস করবেন। আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করবো। লেখাটি যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ..!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন