ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে এনআইডি নম্বর ও কার্ড পাওয়ার উপায়।

ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে এনআইডি নম্বর ও কার্ড পাওয়ার উপায়।

ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে এনআইডি নম্বর ও কার্ড পাওয়ার উপায়।

আমাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা খুব সহজে হারায় না। তবে নতুন ভোটার হওয়ার পর ভোটার নিবন্ধন স্লিপ অনেকের কাছ থেকে খুব সহজেই হারিয়ে যায়। ফলে তারা এনআইডি নম্বর পাওয়া বা এনআইডি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। প্রায় প্রতিনিয়নই শুনতে হয় ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে ফেলেছি এখন কি করবো? ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে এনআইডি নম্বর ও কার্ড পাওয়ার উপয় কি? উপায় তো কিছু না কিছু অবশ্যই আছে। তবে তার জন্য বাড়তি একটু ঝামেলা পোহাতে হয়। সেই সব বাড়তি ঝামেলাগুলো কি চলুন জানি বিস্তারিত।

নির্দিষ্ট বয়সে ভোটার হওয়া নাগরিকের অধিকার। যাদের জন্ম তারিখ ০১/০১/২০০৪ বা তার পূর্বে তারা সবাই ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন। তবে যাদের বয়স ১৮ বছরের কম তারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। কিন্ত ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম আসবে না এবং ভোট দিতে পারবে না। বয়স ১৮ বছর হওয়ার পর অটোমেটিক ভোটার তালিকায় নাম চলে যাবে তখন ভোটও দেয়া যাবে। 


অনেকেই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া হালনাগাদ কার্যক্রম ভোটার হয়। আবার অনেকে হালনাগাদের সময় ভোটার না হতে পেরে অফিসে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন দাখিল করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অফিসিয়ালভাবে ভোটার হয়।

ভোটার হওয়ার সময় আবেদনকারীকে ২ নং নিবন্ধন ফরমের নিচের অংশ ছিড়ে দেয়া হয় যাকে প্রাপ্তি স্লিপ বা ২ নং ভোটার নিবন্ধন স্লিল বলা হয়। এই স্লিপের ডান পাশে ৮/৯ সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর থাকে যেটিকে ফরম নম্বর বলা হয়। কেবলমাত্র ফরম নম্বর/এনআইডি নম্বর/ভোটার নম্বর দিয়েই একজন ভোটারের বিস্তারিত তথ্য দেখা যায়। একজন নতুন Underage Voter এর বিস্তারিত তথ্য দেখার জন্য বা এনআইডি নম্বর পাওয়ার জন্য ফরম নম্বর ছাড়া আর অন্য কোনভাবে দেখা যায় না। আর দেখা গেলেও তা অনেক ঝামেলাপূর্ণ একটা বিষয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্চে এই নিবন্ধন স্লিপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটার নিবন্ধন স্লিপটি অসাধানতার কারণে হারিয়ে ফেলে এবং প্রয়োজনের সময় ভোগান্তির  শিকার হয়। 

ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয়:-

আপনি যদি প্রকৃত ভোটার হয়ে থাকে অর্থাৎ পূর্বে ভোট  দিয়েছেন বা ১৮ বছরের বেশি বয়স হয়েছে। তবে এখনো এনআইডি কার্ড পাননি তাদের ক্ষেত্রে যা করতে হবে তা হচ্ছে, আপনার গ্রাম/মহল্লা/পাড়ার জন্য যে ভোটার তালিকা আছে সেই ভোটার তালিকায় দেখবেন আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখসহ ১২ সংখ্যার একটি ভোটার নম্বর আছে। সেখান থেকে ভোটার নম্বরটি লিখে নিবেন এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ওই ভোটার নম্বরের মাধ্যমেই এনআইডি নম্বর বা এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। 


আপনি আপনার ওয়ার্ডের মেম্বর/মহিলা মেম্বর/কাউন্সিলর/মহিলা কাউন্সিলরের নিকট সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা পেয়ে যাবেন। আর না পেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা দেখবেন।

যারা ১৮ বছরের কম বয়সী, পূর্বে ভোট দেননি, এনআইডি নম্বর বা এনআইডি কার্ড কিছুই পাননি এবং নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে ফেলেছেন। এখন কোন না কোন জরুরী কাজে এনআইডি নম্বর প্রয়োজন বা এনআইডি কার্ড প্রয়োজন। এমন ভোটারদের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর পাওয়া বা এনআইডি কার্ড পাওয়ার বিষয়টা একটু জটিল। কারণ এনআইডি নম্বর পাওয়ার জন্য ফরম নম্বর বা ভোটার নম্বর কোনটাই আপনি সরবরাহ করতে পারছেন না। 

সেক্ষেত্রে আপনকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। তাদেরকে বলবেন আপনার ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেছে এবং আপনার তথ্য খুজে বের করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করবেন। অফিসের স্টাফগণ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে আপনার তথ্য খুজে বের করে দেবে।  তবে প্রোসেসটা অনেকটাই সময় স্বাপেক্ষ এবং ঝামেলার। ভোটার যদি তার ২ নং নিবন্ধন ফরমে ব্যবহৃত নামের বানান, পিতার নামের বানান, জন্ম তারিখ ইত্যাদি তথ্য সঠিক করে না দিতে পারে তাহলে অনেক সময় তা খুজে পাওয়া যায় না। তাই আপনার ক্ষেত্রে যদি এমন হয় তাহলে ভোটার হওয়ার সময় যেসব নাম ব্যবহার করেছিলেন সেগুলো সঠিক করে বলার চেষ্টা করবেন। 


যদি উপজেলা থেকে তথ্য খুজে না পাওয়া যায় তাহলে পরবর্তী ভোটার তালিকা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন অথবা নির্বাচন কমিশন (এনআইডি উইং) এ যেতে হবে। সেখানে গিয়ে বিস্তারিত খুলে বলবেন। তারা আপনার হাতের ছাপ নিয়ে আপনার আইডেন্টিটি যাচাই করে দেখবে। আপনার তথ্য যদি সার্ভারে থেকে থাকে তাহলে তারা আপনার এনআইডি নম্বর লিখে দেবে সেটি নিয়ে চলে আসবেন। বাকী কাজ উপজেলা থেকে করিয়ে নিতে পারবেন।

হেড অফিস থেকে যদি আপনার কোন ভোটার তথ্য না পাওয়া যায় তাহলে তারা আপনাকে একটি স্লিপ দেবে সেখানে লেখা থাকবে কোন প্রকার বায়োমেট্রিক তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তাদের সই ও সীল থাকবে। আপনার ক্ষেত্রে যদি এমন হয় তাহলে উপজেলাতে ফিরে নতুন করে ভোটার হতে হবে। তবে হেড অফিস থেকে দেয়া স্লিপটি হারাবেন না, হারিয়ে গেলে পুনরায় অনুরুপ স্লিপ পাওয়ার জন্য হেড অফিসে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুখের কথায় কাজ হবে না। 

10 মন্তব্যসমূহ

  1. আমার স্লিপ হারিয়ে ফেলেছি এখন কি করব

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় কি সে বিষয়েই তো বিস্তারিত তথ্য দেয়া হলো। একটু ভালো করে পড়ে দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন কি করতে হবে। ধন্যবাদ..।

      মুছুন
  2. উত্তরগুলি
    1. নিজ এলাকার তালিকায় নাম না খুজে পেলে পাশের এলাকার তালিকা খুজে দেখুন। তাও যদি না পান তাহলে এনআইডি উইং এ গিয়ে হাতের ছাপ দিয়ে আইডেন্টিটি যাচাই করে আসতে হবে। আইডেন্টিটি যাচাই না হলে পুনরায় ভোটার হতে পারবেন। আইডেন্টিটি যাচাই না করে পুনরায় ভোটার হলে ডুপ্লিকেট হওয়ার সম্ভবনা থাকবে।

      মুছুন
  3. HEY BROTHER/SISTER
    NOW WE CAN CHECK NID WITH DIGITAL BIRTH REGISTRATION NUMBER IN ONE PLACE HERE. PLEASE TELL ME HOW TO DO IT?
    I DON'T REALLY KNOW IT SO I WANT TO LEARN....

    YOU CAN ALSO ANSWER HERE=( imranmdtosher1788@gmail.com)

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. If you want to check NID details with digital birth registration number then you need to go to your nearest Upazila Election Office or NID Wing, Dhaka. There is no way to check NID details from online with birth registration number.

      মুছুন
  4. নাম সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলাম। প্রমাণ সরূপ জন্ম সনদ, পাসপোর্ট কপি এবং ম্যারেজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম। উনারা এসএসসির সনদ চেয়েছিলেন, সনদে নাম ভুল আছে, সেটা উল্লেখ করে অনান্য ডকুমেন্টস অনুসারে নাম সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। যেহেতু এনআইডি জরুরি। কিন্তু উনারা আবেদন বাতিল করে দিয়েছেন। আমার এখন কি করনীয়? এসএসসি সনদ ঠিক করতে পারবো না, অনেক টাকা লাগবে। আমি গরিব মানুষ।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. এনআইডির সার্ভারে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ দেয়া আছে বিধায় তারা এসএসসি সনদ চেয়েছিলো। যেহেতু আপনি এসএসসি পাশ তাই এসএসসি সনদ না দেয়া পর্যন্ত এনআইডি কার্ডের আবেদন অনুমোদন পাবে না। যদি এনআইডি কার্ডে নাম সংশোধন করতেই চান তাহলে উচিত কাজ হবে আগে এসএসসি সনদ সংশোধন করে নেয়া তারপর এনআইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করা। এর বিকল্প আর কিছু নেই।

      মুছুন
  5. আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমার বয়স ১৮ হইছে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আছে। এখন আমার NID টা লাগবে সমস্যা ফরম পুরনের সময়ে যে স্লিপ দিছে তা হারাই গেছে। স্লিপের নাম্বার টা কি আমি ইউনিয়ন পরিষদ অথবা যে ফরম পুরন করে দিছে তার কাছে পাবো???
    অথবা আমরা যারা একই দিনে পুরন করছি একই বাডির তাদের কারো নাম্বার দিয়ে কি সিরিয়াল পাওয়া যাবে?? প্লিজ কষ্ট করে জানাবেন৷

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। তারা আপনার ভোটার স্লিপের নম্বর/এনআইডি নম্বর/এনআইডি কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে।

      মুছুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন